ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কেকের মৃত্যুর আসল কারণ জানা গেল

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

তিন দিন হয়ে গেল প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের নামজাদা গায়ক কৃষ্ণকুমার কুন্নাত ওরফে কেকে। মরদেহ দেখে চিকিৎসকরা প্রথমে বলেছিলেন, হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে এই কণ্ঠশিল্পীর। এরপর তার কপাল ও থুথনিতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে পুলিশ। করা হয় ময়নাতদন্ত। অবশেষে সেই রিপোর্ট থেকে জানা গেল মৃত্যুর আসল কারণ।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, হার্টের ব্লকেজের জন্য মারা গেছেন গায়ক কেকে। তার হৃদযন্ত্রের বাঁ-দিকের ধমনিতে ৭০ শতাংশ ব্লকেজ ছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, নাচ-গান করতে গিয়ে অতিরিক্ত উত্তেজনায় তার হার্টের ব্লকেজ বেড়ে যায়। এতে আচমকাই রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ায় কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়। তাতেই উড়ে যায় প্রাণপাখি।

এ কথা আগেই জানা গেছে যে, অসুস্থ শরীর নিয়েই কলকাতায় গানের শো করতে এসেছিলেন কেকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে নজরুল মঞ্চে যখন শো চলছিল, তখনও কেকে-কে অসুস্থ দেখাচ্ছিল। এসি চলা সত্ত্বেও তিনি বারবার ঘামছিলেন এবং তোয়োলে দিয়ে তা মুছছিলেন। সেই ছবি আর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই অবস্থায় শো চালু রেখেছিলেন গায়ক।

মঙ্গলবার টানা দুই ঘণ্টা পারফর্ম করেন কেকে। নিজের ২০টি জনপ্রিয় গান গেয়ে শোনান উপস্থিত দর্শকদের। কিন্তু এত মারাত্মক অসুস্থতা নিয়ে তিনি শো করতে এসেছিলেন, সে কথা কাউকে জানাননি। ম্যানেজার রীতেশ, যিনি কেকের সঙ্গে কলকাতায় এসছিলেন তিনিও জানতেন না। এমনকি, নিজের অসুস্থতার কথা গায়ক জানাননি তার স্ত্রী-সন্তানদেরও।

কেকের মৃত্যুর খবর পেয়ে বুধবার সকালে কলকাতায় ছুটে আসেন তার স্ত্রী জ্যোতিলক্ষ্মী কৃষ্ণা। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মুম্বাই ছাড়ার আগে বারবার বলেছিল, শরীরটা ভালো নেই। আয়োজকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছি। তাই শেষ মুহূর্তে পারফর্ম না করে পারছি না। ওর (কেকে) হাতে ব্যথা ছিল। তখনো বুঝতে পারিনি, ওর শরীরে বড় রোগ বাসা বেঁধেছে।’

গানের শো শেষ করে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তার জন্য নির্ধারিত হোটেলে ফিরে যান কেকে। সেখানে তার বমি হয়। অচেতন হয়ে পড়ে যান মুখ থুবড়ে। তৎক্ষণাৎ নেওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, হোটেলে থাকতেই মৃত্যু হয়েছে কেকের। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার তার মরদেহ নেওয়া হয় মুম্বাই। সেখানেই করা হয় শেষকৃত্য।

খ্যাতিমান এই গায়কের মৃত্যুতে শোকাহত গোটা ভারত। শোক জানান সকল ফিল্ম ইন্ডাস্টির তারকারা। শামিল হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। তারা পৃথক শোক জানান রাষ্ট্রীয়ভাবে। এছাড়া শোক জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও। মৃত্যুর পর কেকে-কে কলকাতায় গান স্যালুট দেওয়া হয়। এরপর নেওয়া হয় মু্ম্বাইয়ে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

কেকের মৃত্যুর আসল কারণ জানা গেল

আপডেট সময় ১০:৫৯:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুন ২০২২

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

তিন দিন হয়ে গেল প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের নামজাদা গায়ক কৃষ্ণকুমার কুন্নাত ওরফে কেকে। মরদেহ দেখে চিকিৎসকরা প্রথমে বলেছিলেন, হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে এই কণ্ঠশিল্পীর। এরপর তার কপাল ও থুথনিতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে পুলিশ। করা হয় ময়নাতদন্ত। অবশেষে সেই রিপোর্ট থেকে জানা গেল মৃত্যুর আসল কারণ।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, হার্টের ব্লকেজের জন্য মারা গেছেন গায়ক কেকে। তার হৃদযন্ত্রের বাঁ-দিকের ধমনিতে ৭০ শতাংশ ব্লকেজ ছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, নাচ-গান করতে গিয়ে অতিরিক্ত উত্তেজনায় তার হার্টের ব্লকেজ বেড়ে যায়। এতে আচমকাই রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ায় কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়। তাতেই উড়ে যায় প্রাণপাখি।

এ কথা আগেই জানা গেছে যে, অসুস্থ শরীর নিয়েই কলকাতায় গানের শো করতে এসেছিলেন কেকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে নজরুল মঞ্চে যখন শো চলছিল, তখনও কেকে-কে অসুস্থ দেখাচ্ছিল। এসি চলা সত্ত্বেও তিনি বারবার ঘামছিলেন এবং তোয়োলে দিয়ে তা মুছছিলেন। সেই ছবি আর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই অবস্থায় শো চালু রেখেছিলেন গায়ক।

মঙ্গলবার টানা দুই ঘণ্টা পারফর্ম করেন কেকে। নিজের ২০টি জনপ্রিয় গান গেয়ে শোনান উপস্থিত দর্শকদের। কিন্তু এত মারাত্মক অসুস্থতা নিয়ে তিনি শো করতে এসেছিলেন, সে কথা কাউকে জানাননি। ম্যানেজার রীতেশ, যিনি কেকের সঙ্গে কলকাতায় এসছিলেন তিনিও জানতেন না। এমনকি, নিজের অসুস্থতার কথা গায়ক জানাননি তার স্ত্রী-সন্তানদেরও।

কেকের মৃত্যুর খবর পেয়ে বুধবার সকালে কলকাতায় ছুটে আসেন তার স্ত্রী জ্যোতিলক্ষ্মী কৃষ্ণা। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মুম্বাই ছাড়ার আগে বারবার বলেছিল, শরীরটা ভালো নেই। আয়োজকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছি। তাই শেষ মুহূর্তে পারফর্ম না করে পারছি না। ওর (কেকে) হাতে ব্যথা ছিল। তখনো বুঝতে পারিনি, ওর শরীরে বড় রোগ বাসা বেঁধেছে।’

গানের শো শেষ করে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তার জন্য নির্ধারিত হোটেলে ফিরে যান কেকে। সেখানে তার বমি হয়। অচেতন হয়ে পড়ে যান মুখ থুবড়ে। তৎক্ষণাৎ নেওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, হোটেলে থাকতেই মৃত্যু হয়েছে কেকের। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার তার মরদেহ নেওয়া হয় মুম্বাই। সেখানেই করা হয় শেষকৃত্য।

খ্যাতিমান এই গায়কের মৃত্যুতে শোকাহত গোটা ভারত। শোক জানান সকল ফিল্ম ইন্ডাস্টির তারকারা। শামিল হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। তারা পৃথক শোক জানান রাষ্ট্রীয়ভাবে। এছাড়া শোক জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও। মৃত্যুর পর কেকে-কে কলকাতায় গান স্যালুট দেওয়া হয়। এরপর নেওয়া হয় মু্ম্বাইয়ে।