ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘খেলাধুলার মাধ্যমে দেশপ্রেম ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে’ সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: প্রধান আসামি মঈনসহ ৩ জন তিনদিনের রিমান্ডে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে দেওয়া হবে ‘কৃষক কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর থামিয়ে বিএনপি নেতার মুক্তি দাবি কানাডায় প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফেডারেল এমপি নির্বাচিত হলেন ডলি বেগম ‘সোশ্যালিস্ট’ অঙ্গীকারে অটল নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি মার্কিন নৌ-অবরোধ সার্বভৌমত্বের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ : ইরান

‘ফেল কইরাও গরু জবাই কইরা খাওয়াইতে চাইলাম, কেউ আইলো না’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘মনে বড় আশা ছিল মেম্বার হইয়া এলাকার মানুষের সেবা করমু। আমি গরীব মানুষ। ফুটপাতে জিলাপি ও গুলগুলি বানাইয়া বিক্রি করে জীবন চালাই। এইবারের নির্বাচনে এলাকার মানুষ আমারে মেম্বার পদে প্রার্থী বানাইলো। মার্কা পাইলাম ফুটবল। এলাকার মানুষরে নিজ হাতে জিলাপি, গুলগুলি বানাইয়া একহাজার ৬০০ প্যাকেট করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়াইছি। বিজয়ের পরে দুইডা গরু জবাই করে দশ মণ চাউলের ভাত ও দশ হাজার টাকা খরচ কইরা সবাইরে পেট ভইরা খাওয়ামু বলে মাটি ছুঁয়ে ওয়াদা করেছিলাম। আমার ধারণা ছিল কমপক্ষে ৮০০ ভোট পাইয়া আমি নির্বাচিত হমু। কিন্তু আমি ভোট পাইছি মাত্র ৬৪ টি। ভোটে হারায় কষ্ট পেলেও, নিজে মাইকিং করে খাওয়ার দাওয়াত দিলাম, কেও আইলো না। এইডাই মনের মধ্যে খুব কষ্ট পাইছি।’

এভাবেই কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ফুটবল প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী আব্দুল হামিদ ( ৬০) । তিনি ওই ওয়ার্ডের বাইগর পাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রথম বারের মতো অনেক আশা করে তিনি মেম্বার প্রার্থী হয়েছিলেন।

সরেজমিনে মঙ্গলবার দুুপুরে আব্দুল হামিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, তার বাড়ির সামনে কয়েকটি চেয়ার, বেঞ্চ সাজানো। সেখানে তিনি তার স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন, এলাকাবাসী তার বাড়িতে আসবে। তাদের খাওয়ার জন্য রাখা দু’টি গরু, দশ মণ চাউল ও দশ হাজার টাকা বুঝে নিয়ে, মহা ধুমধামে রান্না করে খাবে। রক্ষা হবে নির্বাচনের সময় দেওয়া তার ওয়াদা। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও, কেউ তার দাওয়াতে যায়নি।

আব্দুল হামিদ জানান, জণগণ হয়তো তাদের দেওয়া কথা রাখতে পারেননি। কিন্তু আমি আমার কথা রাখতে চেয়েছি। এ জন্যই আমি সোমবার নিজে মাইকিং করে আমার বাড়িতে গরু জবাই করে খাওয়ানোর দাওয়াত দিয়েছি। এই দাওয়াতে কেউ সাড়া দেননি।

তবে পুরো বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘খেলাধুলার মাধ্যমে দেশপ্রেম ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে’

‘ফেল কইরাও গরু জবাই কইরা খাওয়াইতে চাইলাম, কেউ আইলো না’

আপডেট সময় ১০:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘মনে বড় আশা ছিল মেম্বার হইয়া এলাকার মানুষের সেবা করমু। আমি গরীব মানুষ। ফুটপাতে জিলাপি ও গুলগুলি বানাইয়া বিক্রি করে জীবন চালাই। এইবারের নির্বাচনে এলাকার মানুষ আমারে মেম্বার পদে প্রার্থী বানাইলো। মার্কা পাইলাম ফুটবল। এলাকার মানুষরে নিজ হাতে জিলাপি, গুলগুলি বানাইয়া একহাজার ৬০০ প্যাকেট করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়াইছি। বিজয়ের পরে দুইডা গরু জবাই করে দশ মণ চাউলের ভাত ও দশ হাজার টাকা খরচ কইরা সবাইরে পেট ভইরা খাওয়ামু বলে মাটি ছুঁয়ে ওয়াদা করেছিলাম। আমার ধারণা ছিল কমপক্ষে ৮০০ ভোট পাইয়া আমি নির্বাচিত হমু। কিন্তু আমি ভোট পাইছি মাত্র ৬৪ টি। ভোটে হারায় কষ্ট পেলেও, নিজে মাইকিং করে খাওয়ার দাওয়াত দিলাম, কেও আইলো না। এইডাই মনের মধ্যে খুব কষ্ট পাইছি।’

এভাবেই কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ফুটবল প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী আব্দুল হামিদ ( ৬০) । তিনি ওই ওয়ার্ডের বাইগর পাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রথম বারের মতো অনেক আশা করে তিনি মেম্বার প্রার্থী হয়েছিলেন।

সরেজমিনে মঙ্গলবার দুুপুরে আব্দুল হামিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, তার বাড়ির সামনে কয়েকটি চেয়ার, বেঞ্চ সাজানো। সেখানে তিনি তার স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন, এলাকাবাসী তার বাড়িতে আসবে। তাদের খাওয়ার জন্য রাখা দু’টি গরু, দশ মণ চাউল ও দশ হাজার টাকা বুঝে নিয়ে, মহা ধুমধামে রান্না করে খাবে। রক্ষা হবে নির্বাচনের সময় দেওয়া তার ওয়াদা। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও, কেউ তার দাওয়াতে যায়নি।

আব্দুল হামিদ জানান, জণগণ হয়তো তাদের দেওয়া কথা রাখতে পারেননি। কিন্তু আমি আমার কথা রাখতে চেয়েছি। এ জন্যই আমি সোমবার নিজে মাইকিং করে আমার বাড়িতে গরু জবাই করে খাওয়ানোর দাওয়াত দিয়েছি। এই দাওয়াতে কেউ সাড়া দেননি।

তবে পুরো বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।