ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

সাড়ে ১৩ হাজার কিমি. রাস্তা পায়ে হেঁটে মক্কায়

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

দীর্ঘ এক বছরে সাড়ে ১৩ হাজার কিলোমিটার (আকাশ পথে ৯ হাজার কিমি) রাস্তা পায়ে হেঁটে মক্কায় পৌঁছে পবিত্র হজে অংশগ্রহণ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার এক যুবক।

দেশটির পশ্চিম জাভা দ্বীপের পেকালঙ্গান শহর থেকে গেল বছরের ২৮ আগস্ট রাত ১০টায় পবিত্র মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ খামিম সেতিয়াওয়ান। যাত্রার সময় তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে হেঁটে পবিত্র মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম।

সময়সূচি অনুযায়ী এ বছরের আগস্ট মাসের ২৭ তারিখ মক্কা পৌঁছার কথা থাকলেও ১৯ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পৌঁছেন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান হয়ে দুবাইতে পৌঁছেন তিনি। দুবাই থেকে আবুধাবি হয়ে সৌদি আরব প্রবেশ করেন।

দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ী, প্রবল সাহসী মানসিকতার যুবক মোহাম্মদের বাবা ৭৪ বছর বয়সী সাইয়ফানি সলিচিন জানান, যখনই সে কিছু চেয়েছে, তখন সে নিজেই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে তা অর্জন করেছে। কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি, পারবেও না। সে দৃঢ় বিশ্বাসের একজন মানুষ।

তার এ আধ্যাত্মিক দুঃসাহসিক যাত্রায় তার সঙ্গে ছিল একটি ব্যাকপ্যাক, পবিত্র কোরআনের একটি কপি, কয়েকটি শার্ট, দুই জোড়া প্যান্ট এবং জুতা, এক ডজন মোজা, একটি স্লিপিং ব্যাগ, তাঁবু, একটি পোর্টেবল মশাল, একটি স্মার্ট ফোন, একটি ইন্দোনেশিয়ান মিনি পতাকা, একটি জিপিএস এবং ৩ মিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপি (সৌদি রিয়ালে ৮৫০ রিয়াল) নগদ।

প্রথমে তার এ দুঃসাহসিক যাত্রার পরিকল্পনার কথা জেনে পরিবারের সদস্যরা তার সক্ষমতার ব্যাপারে সন্দিহান থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে তার দৃঢ় মনোবল দেখে তারা আবেদনে সাড়া দিয়েছিল। তাকে এ দুঃসাহসিক ভ্রমণে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে গিয়ে রাত যাপন করতে হয়েছে বিভিন্ন দেশের মসজিদ, সরকারি ভবন, স্থানীয় লোকজনের বাড়ি কিংবা গহীন বন-জঙ্গলের মধ্যে। প্রতিদিন ৫০ কিলোমিটার হাঁটার ইচ্ছা থাকলেও হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার হাঁটতে পেরেছেন। যাত্রা পথে তিনি মালয়েশিয়া এবং ভারতে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সুস্থতা এবং শক্তি সঞ্চারের জন্য পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতেন।

মোহাম্মদ খামিম সেতিয়াওয়ান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৈরী আবহাওয়া, জাতিগত দাঙ্গা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মধ্য দিয়ে পাড়ি দিয়ে কোনো সমস্যায় না পড়লেও মালয়েশিয়ার জঙ্গলে তিনবার বিষাক্ত সাপের আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

কিন্তু অলৌকিকভাবে, এমনকি তারা আমাকে কামড়ানোর আগেই পড়ে গিয়ে মারা যায়। রাতে একা একা হাঁটতে গেলে তিনি কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

যেমন ভারতবর্ষে তিনি সৌদি আরবের রুট সম্পর্কে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করেন, কিন্তু তারা তাকে ভুল পথ দেখিয়েছেন- যার কারণে তাকে আবার একটি দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।”

যাত্রা পথে প্রতিটি দেশে ইন্দোনেশিয়ান মিশনের সহযোগিতা নিয়ে ভিসা স্টাম্পিং করেছেন। হালাল খাবার খেয়েছেন। তিনি বলেন, আমি হজ পালনে এতটাই দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলাম যে, কোনো বাধা-বিপত্তি আমাকে আটকাতে পারেনি।

হজ শুধু একটি ইবাদতই নয়, এটি একটি মুসলিম সংহতির নাম। যাত্রা পথে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণ গোত্রের মানুষের সহযোগিতা, ভালোবাসা এবং ভ্রাতৃত্ব পেয়ে আমি ধন্য হয়ে তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পেরেছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

সাড়ে ১৩ হাজার কিমি. রাস্তা পায়ে হেঁটে মক্কায়

আপডেট সময় ০৮:১০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

দীর্ঘ এক বছরে সাড়ে ১৩ হাজার কিলোমিটার (আকাশ পথে ৯ হাজার কিমি) রাস্তা পায়ে হেঁটে মক্কায় পৌঁছে পবিত্র হজে অংশগ্রহণ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার এক যুবক।

দেশটির পশ্চিম জাভা দ্বীপের পেকালঙ্গান শহর থেকে গেল বছরের ২৮ আগস্ট রাত ১০টায় পবিত্র মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ খামিম সেতিয়াওয়ান। যাত্রার সময় তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে হেঁটে পবিত্র মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম।

সময়সূচি অনুযায়ী এ বছরের আগস্ট মাসের ২৭ তারিখ মক্কা পৌঁছার কথা থাকলেও ১৯ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পৌঁছেন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান হয়ে দুবাইতে পৌঁছেন তিনি। দুবাই থেকে আবুধাবি হয়ে সৌদি আরব প্রবেশ করেন।

দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ী, প্রবল সাহসী মানসিকতার যুবক মোহাম্মদের বাবা ৭৪ বছর বয়সী সাইয়ফানি সলিচিন জানান, যখনই সে কিছু চেয়েছে, তখন সে নিজেই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে তা অর্জন করেছে। কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি, পারবেও না। সে দৃঢ় বিশ্বাসের একজন মানুষ।

তার এ আধ্যাত্মিক দুঃসাহসিক যাত্রায় তার সঙ্গে ছিল একটি ব্যাকপ্যাক, পবিত্র কোরআনের একটি কপি, কয়েকটি শার্ট, দুই জোড়া প্যান্ট এবং জুতা, এক ডজন মোজা, একটি স্লিপিং ব্যাগ, তাঁবু, একটি পোর্টেবল মশাল, একটি স্মার্ট ফোন, একটি ইন্দোনেশিয়ান মিনি পতাকা, একটি জিপিএস এবং ৩ মিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপি (সৌদি রিয়ালে ৮৫০ রিয়াল) নগদ।

প্রথমে তার এ দুঃসাহসিক যাত্রার পরিকল্পনার কথা জেনে পরিবারের সদস্যরা তার সক্ষমতার ব্যাপারে সন্দিহান থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে তার দৃঢ় মনোবল দেখে তারা আবেদনে সাড়া দিয়েছিল। তাকে এ দুঃসাহসিক ভ্রমণে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে গিয়ে রাত যাপন করতে হয়েছে বিভিন্ন দেশের মসজিদ, সরকারি ভবন, স্থানীয় লোকজনের বাড়ি কিংবা গহীন বন-জঙ্গলের মধ্যে। প্রতিদিন ৫০ কিলোমিটার হাঁটার ইচ্ছা থাকলেও হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার হাঁটতে পেরেছেন। যাত্রা পথে তিনি মালয়েশিয়া এবং ভারতে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সুস্থতা এবং শক্তি সঞ্চারের জন্য পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতেন।

মোহাম্মদ খামিম সেতিয়াওয়ান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৈরী আবহাওয়া, জাতিগত দাঙ্গা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মধ্য দিয়ে পাড়ি দিয়ে কোনো সমস্যায় না পড়লেও মালয়েশিয়ার জঙ্গলে তিনবার বিষাক্ত সাপের আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

কিন্তু অলৌকিকভাবে, এমনকি তারা আমাকে কামড়ানোর আগেই পড়ে গিয়ে মারা যায়। রাতে একা একা হাঁটতে গেলে তিনি কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

যেমন ভারতবর্ষে তিনি সৌদি আরবের রুট সম্পর্কে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা করেন, কিন্তু তারা তাকে ভুল পথ দেখিয়েছেন- যার কারণে তাকে আবার একটি দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।”

যাত্রা পথে প্রতিটি দেশে ইন্দোনেশিয়ান মিশনের সহযোগিতা নিয়ে ভিসা স্টাম্পিং করেছেন। হালাল খাবার খেয়েছেন। তিনি বলেন, আমি হজ পালনে এতটাই দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলাম যে, কোনো বাধা-বিপত্তি আমাকে আটকাতে পারেনি।

হজ শুধু একটি ইবাদতই নয়, এটি একটি মুসলিম সংহতির নাম। যাত্রা পথে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণ গোত্রের মানুষের সহযোগিতা, ভালোবাসা এবং ভ্রাতৃত্ব পেয়ে আমি ধন্য হয়ে তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পেরেছি।