ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে যা বললেন স্পিকার সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে ভর্তি ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন নড়াইলে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণ: ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে মামা-ভাগ্নির মৃত্যু নাইজেরিয়ায় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ল বিমান, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন ৬৮ যাত্রী নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পালনে বদ্ধপরিকর সরকার: মির্জা ফখরুল কুষ্টিয়া সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক

মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে গরুর ব্যবসায়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স ডিগ্রি) ঝিনাইদহের মো. আবুল হোসেন। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এ যুবকের পেশা গরুর ব্যবসা। মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পরপরই তিনি নেমে পড়েন গরুর ব্যবসায়। পেয়েছেন সফলতাও। এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাতে নিয়ে এসেছেন পাঁচটি গরু। গোপীবাগের অস্থায়ী পশুর হাটে গরুগুলো নিয়ে বসেছেন রোববার থেকে।

তিনি জানান, ঝিনাইদহের সরকারি কে সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর সরকারি অথবা বেসরকারি কোনো চাকরিরই চেষ্টা করেননি। পেশা হিসেবে বেছে নেন বাবার গরুর ব্যবসা। সেই সঙ্গে নিজস্ব জমিতে চাষাবাদে মনোযোগ দেন।

অর্থনীতিতে মাস্টার্স করার পরও কেন কোনো ধরনের চাকরির চেষ্টা করলেন না- এমন প্রশ্নের উত্তরে আবুল হোসেন বলেন, পড়ালেখা করেছি মনের খোরাক মেটানোর জন্য। পাস করে চাকরি করব এ ইচ্ছা ছাত্র অবস্থাতেও ছিল না। তাছাড়া আমাদের দেশে ভালো চাকরি পাওয়া মোটেই সহজ না। তাই স্বাধীন পেশা হিসেবে ব্যবসা বেছে নিয়েছি।

গরুর ব্যবসা করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বাবা গরুর ব্যবসা করতেন। সেজন্য ঝিনাইদহের ডাকবাংলার গ্রামের বাড়িতে আমাদের ছোট একটি খামারও আছে। পাস করার পর বাবাও কোনোদিন চাকরির জন্য চাপাচাপি করেনি। তাই পৈত্রিক ব্যবসা হিসেবেই গরুর ব্যবসা শুরু করি। আর মাঠে আমাদের বেশকিছু জমি আছে, সেই জমি চাষাবাদ ও দেখাশোনা করি।

‘আমাদের খামারে নিজস্ব কয়েকটি গাভি রয়েছে। সেই গাভির বাচ্চা লালন-পালনের পাশাপাশি বাজার থেকে গরু কিনেই মোটাতাজাকরণ করা হয়। সাধারণত একটি গরুর বয়স তিন বছর হলে বিক্রি করি। তিন বছর পোষার পর একটি গরু বিক্রি করতে গেলে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পাওয়া যায়’-বলেন আবুল হোসেন।

তিনি জানান, এবারের কোরবানি ঈদ উপলক্ষে ঢাকাতে পাঁচটি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে একটি গরু নিজস্ব গাভির। এই গরুটির বয়স তিন বছর। বাকি চারটি গরু বাজার থেকে কিনে আট মাস নিজস্ব খামারে মোটাতাজাকরণ করেছেন। নিজস্ব গাভি থেকে পাওয়া গরুটির দাম এক লাখ ৮০ হাজার টাকার ওপরে পাবেন বলে আশা করছেন আবুল হোসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গরুটি থেকে প্রায় আট মণ মাংস হবে।

আর বাজার থেকে কিনে মোটাতাজাকরণ করা চারটি গরুর মধ্যে একটির দাম এক লাখ ৬০ হাজার টাকার ওপরে এবং বাকি তিনটির দাম এক লাখ টাকার ওপরে পাবেন এমনটিই আশা করছেন তিনি।

আট মণ মাংস হবে এমন গরুর দাম তো অনেকেই দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা চাচ্ছেন, আপনি কম চাওয়ার কারণ কী- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় গরু এনেছি বিক্রি করার জন্য। দাম চাওয়ার জন্য না। যে দামে আমি বিক্রি করতে চাই সেই দামই চাচ্ছি। অতিরিক্ত দাম চেয়ে লাভ নেই।

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে গরু নিয়ে এসেছি, এর সবগুলোই দেশি গাভির বাচ্চা। তবে ইনজেকশন দেয়া। লালন-পালন করতে প্রতিদিন এক একটি গরুর পেছনে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা ব্যয় হয়েছে। ঢাকায় গরু আনার সময় সঙ্গে করে ভুসি, বিচালিসহ অন্যান্য খাবার নিয়ে এসেছি। ঢাকা থেকে খাবার কিনে গরুকে খাওয়ানো সম্ভব না। খরচ অনেক বেশি পড়ে যাবে।’

মাস্টার্স পাস করে গরুর ব্যবসা করতে কেমন লাগছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে আবুল হোসেন বলেন, আমার কাছে এখন এই ব্যবসা বেশ ভালো লাগে। সঠিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করে বিক্রি করলে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে গরুর ব্যবসায়

আপডেট সময় ০৬:৩৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স ডিগ্রি) ঝিনাইদহের মো. আবুল হোসেন। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এ যুবকের পেশা গরুর ব্যবসা। মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পরপরই তিনি নেমে পড়েন গরুর ব্যবসায়। পেয়েছেন সফলতাও। এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাতে নিয়ে এসেছেন পাঁচটি গরু। গোপীবাগের অস্থায়ী পশুর হাটে গরুগুলো নিয়ে বসেছেন রোববার থেকে।

তিনি জানান, ঝিনাইদহের সরকারি কে সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর সরকারি অথবা বেসরকারি কোনো চাকরিরই চেষ্টা করেননি। পেশা হিসেবে বেছে নেন বাবার গরুর ব্যবসা। সেই সঙ্গে নিজস্ব জমিতে চাষাবাদে মনোযোগ দেন।

অর্থনীতিতে মাস্টার্স করার পরও কেন কোনো ধরনের চাকরির চেষ্টা করলেন না- এমন প্রশ্নের উত্তরে আবুল হোসেন বলেন, পড়ালেখা করেছি মনের খোরাক মেটানোর জন্য। পাস করে চাকরি করব এ ইচ্ছা ছাত্র অবস্থাতেও ছিল না। তাছাড়া আমাদের দেশে ভালো চাকরি পাওয়া মোটেই সহজ না। তাই স্বাধীন পেশা হিসেবে ব্যবসা বেছে নিয়েছি।

গরুর ব্যবসা করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বাবা গরুর ব্যবসা করতেন। সেজন্য ঝিনাইদহের ডাকবাংলার গ্রামের বাড়িতে আমাদের ছোট একটি খামারও আছে। পাস করার পর বাবাও কোনোদিন চাকরির জন্য চাপাচাপি করেনি। তাই পৈত্রিক ব্যবসা হিসেবেই গরুর ব্যবসা শুরু করি। আর মাঠে আমাদের বেশকিছু জমি আছে, সেই জমি চাষাবাদ ও দেখাশোনা করি।

‘আমাদের খামারে নিজস্ব কয়েকটি গাভি রয়েছে। সেই গাভির বাচ্চা লালন-পালনের পাশাপাশি বাজার থেকে গরু কিনেই মোটাতাজাকরণ করা হয়। সাধারণত একটি গরুর বয়স তিন বছর হলে বিক্রি করি। তিন বছর পোষার পর একটি গরু বিক্রি করতে গেলে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পাওয়া যায়’-বলেন আবুল হোসেন।

তিনি জানান, এবারের কোরবানি ঈদ উপলক্ষে ঢাকাতে পাঁচটি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে একটি গরু নিজস্ব গাভির। এই গরুটির বয়স তিন বছর। বাকি চারটি গরু বাজার থেকে কিনে আট মাস নিজস্ব খামারে মোটাতাজাকরণ করেছেন। নিজস্ব গাভি থেকে পাওয়া গরুটির দাম এক লাখ ৮০ হাজার টাকার ওপরে পাবেন বলে আশা করছেন আবুল হোসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গরুটি থেকে প্রায় আট মণ মাংস হবে।

আর বাজার থেকে কিনে মোটাতাজাকরণ করা চারটি গরুর মধ্যে একটির দাম এক লাখ ৬০ হাজার টাকার ওপরে এবং বাকি তিনটির দাম এক লাখ টাকার ওপরে পাবেন এমনটিই আশা করছেন তিনি।

আট মণ মাংস হবে এমন গরুর দাম তো অনেকেই দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা চাচ্ছেন, আপনি কম চাওয়ার কারণ কী- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় গরু এনেছি বিক্রি করার জন্য। দাম চাওয়ার জন্য না। যে দামে আমি বিক্রি করতে চাই সেই দামই চাচ্ছি। অতিরিক্ত দাম চেয়ে লাভ নেই।

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে গরু নিয়ে এসেছি, এর সবগুলোই দেশি গাভির বাচ্চা। তবে ইনজেকশন দেয়া। লালন-পালন করতে প্রতিদিন এক একটি গরুর পেছনে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা ব্যয় হয়েছে। ঢাকায় গরু আনার সময় সঙ্গে করে ভুসি, বিচালিসহ অন্যান্য খাবার নিয়ে এসেছি। ঢাকা থেকে খাবার কিনে গরুকে খাওয়ানো সম্ভব না। খরচ অনেক বেশি পড়ে যাবে।’

মাস্টার্স পাস করে গরুর ব্যবসা করতে কেমন লাগছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে আবুল হোসেন বলেন, আমার কাছে এখন এই ব্যবসা বেশ ভালো লাগে। সঠিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করে বিক্রি করলে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়।